facebook


ভারতে শিশুদের জন্য সেরা কৃমিনাশক ওষুধ: সেরা সিরাপ, বড়ি, মাত্রা ও বয়সভিত্তিক নির্দেশিকা

Image of Best Deworming Medicine for Kids in India Image of Best Deworming Medicine for Kids in India

শিশুদের বাড়তি যত্ন ও নজরদারি প্রয়োজন, কারণ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাসের বিষয়ে তারা অনেক সময় অসচেতন থাকে। দূষিত মাটি, খাবার, পানি বা অপরিচ্ছন্নতার কারণে তাদের শরীরে পরজীবী কৃমি ঢুকে পড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৭ কোটি প্রাক্‌বিদ্যালয় বয়সী শিশু অন্ত্রের কৃমিতে আক্রান্ত হয়। এর ফলে শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা, দুর্বলতা ও পাতলা পায়খানা হতে পারে এবং রক্তাল্পতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবক হিসেবে কী করা উচিত, তা নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক।

এই লেখায় শিশুদের কৃমিনাশক চিকিৎসা, শিশুদের জন্য উপযুক্ত কৃমিনাশক ওষুধ এবং পুনরায় কৃমির সংক্রমণ ঠেকানোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায় সম্পর্কে সহজভাবে জানানো হয়েছে।

ভারতে শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো কৃমিনাশক ওষুধ কোনগুলি?

অনেক চিকিৎসকের মতে, ভারতে শিশুদের কৃমিনাশক চিকিৎসায় অ্যালবেনডাজল ও মেবেনডাজল বহুল ব্যবহৃত ওষুধ, যার মধ্যে অ্যালবেনডাজলকে অনেক ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শিশুকে কোন ওষুধ দেওয়া হবে, তা তার বয়স, ওজন এবং কোন ধরনের কৃমির সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলি বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।

কৃমিনাশক ওষুধ

সাধারণত যে রূপে পাওয়া যায়

সাধারণত যে ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়

অ্যালবেনডাজল

তরল ওষুধ, সিরাপ, বড়ি

বিভিন্ন ধরনের অন্ত্রের কৃমির সংক্রমণ

মেবেনডাজল

বড়ি, কিছু ওষুধে চিবিয়ে খাওয়ার রূপ

গোলকৃমি, চাবুক কৃমি ও হুককৃমি

পাইরান্টেল পামোয়েট

তরল ওষুধ, বড়ি

বিশেষ করে সুতো কৃমি ও কিছু ধরনের গোলকৃমির সংক্রমণে

সংমিশ্রিত ওষুধ

সিরাপ/বড়ি

নির্দিষ্ট কিছু কৃমির সংক্রমণে

শিশুদের অন্ত্রের কৃমি কী?

অন্ত্রের কৃমি হলো ছোট পরজীবী জীব, যারা শিশুদের অন্ত্রে বাস করে এবং তাদের শরীরের পুষ্টি ও রক্ত থেকে খাবার গ্রহণ করে। সাধারণত দূষিত খাবার, পানি বা মাটির মাধ্যমে এসব কৃমি শিশুর শরীরে প্রবেশ করে।

অন্ত্রের কৃমির সাধারণ ধরন:

কৃমির ধরন

শিশুর শরীরে কীভাবে প্রবেশ করে

সাধারণ লক্ষণ

গোলকৃমি

দূষিত মাটি বা খাবারের মাধ্যমে

পেটে ব্যথা, খিদে কমে যাওয়া

সুতো কৃমি

হাত থেকে মুখে যাওয়ার মাধ্যমে

মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি, ঘুমে ব্যাঘাত

হুককৃমি

আক্রান্ত মাটিতে খালি পায়ে হাঁটার মাধ্যমে

দুর্বলতা, রক্তাল্পতা

চাবুক কৃমি

দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে

পাতলা পায়খানা, পেটে মোচড় দেওয়া ব্যথা

ফিতাকৃমি

ভালোভাবে রান্না না করা মাংস, দূষিত পানির মাধ্যমে

ওজন কমে যাওয়া, খাওয়ার ইচ্ছায় পরিবর্তন

শিশুদের শরীরে কৃমি হওয়ার লক্ষণ কী কী?

শিশুর আচরণে বা শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে শিশু যদি পেটে ব্যথা, মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি, বমি ইত্যাদির কথা বলে, তাহলে এগুলি কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। আরও কিছু লক্ষণ হলো:

  • খিদে কমে যাওয়া
  • পেটে ব্যথা বা মোচড় দেওয়া
  • মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি
  • ওজন ঠিকমতো না বাড়া
  • মলের সঙ্গে কৃমি বা কৃমির অংশ দেখা যাওয়া
  • দুর্বলতা বা সবসময় ক্লান্ত লাগা
  • পাতলা পায়খানা
  • বমি বমি ভাব
  • পেট ফাঁপা
  • বেশি মাত্রায় সংক্রমণ হলে রক্তাল্পতা হতে পারে

মনে রাখুন:  কৃমির সংক্রমণ থাকলেও সব শিশুর ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ দেখা নাও যেতে পারে। তাই শিশুদের নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: পেটের কৃমির ওষুধ

শিশুদের কীভাবে কৃমির সংক্রমণ হয়?

দূষিত খাবার, পানি, মাটি অথবা অপরিচ্ছন্নতার কারণে কৃমির ডিম বা লার্ভা শরীরে প্রবেশ করলে শিশুদের কৃমির সংক্রমণ হতে পারে।

সংক্রমণের সাধারণ কারণ হতে পারে: 

  • দূষিত মাটিতে খালি পায়ে হাঁটা
  • দূষিত খাবার বা পানি খাওয়া
  • খাওয়ার আগে হাত ভালোভাবে না ধোয়া
  • নোংরা আঙুল বা কোনো অপরিষ্কার জিনিস মুখে দেওয়া
  • ভালোভাবে রান্না না করা মাংস খাওয়া

শিশুদের জন্য কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কৃমির সংক্রমণ শিশুর শরীরে পুষ্টি শোষণে বাধা দিতে পারে এবং তার বৃদ্ধি ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের কৃমির সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ভারত সরকার জাতীয় কৃমিনাশক কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ১ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুদের বিদ্যালয় ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতি ছয় মাস অন্তর অ্যালবেনডাজল দেওয়া হয়। 

শিশুকে কখন কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া উচিত?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভারতের জাতীয় কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুযায়ী, শিশুর বয়স ১ বছর হওয়ার পর থেকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু করা যেতে পারে। এর আগে সাধারণত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না, যদি না চিকিৎসক তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশুদের বছরে দুবার, ফেব্রুয়ারি ও আগস্ট মাসে আয়োজিত জাতীয় কৃমিনাশক দিবসের কর্মসূচির আওতায় সাধারণত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া হয়।

শিশুর বয়স

কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া যাবে কি?

চিকিৎসকের পরামর্শ

১ বছরের কম

সাধারণত নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দেওয়া উচিত নয়

প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

১–২ বছর

হ্যাঁ, সঠিক মাত্রায়

শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করুন

২–১৯ বছর

হ্যাঁ

নির্ধারিত কৃমিনাশক দেওয়ার সময়সূচি অনুসরণ করা হয়

বয়স অনুযায়ী কৃমিনাশক ওষুধের নির্দেশিকা

শিশুর বয়স অনুযায়ী কৃমিনাশক ওষুধের ধরন ও মাত্রা আলাদা হতে পারে। শিশুটি ওষুধটি কতটা সহজে খেতে ও হজম করতে পারবে, তা বিবেচনা করেই ওষুধের ধরন ও মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। 

১ বছরের কম বয়সী শিশুর কৃমিনাশক ওষুধ

১২ মাসের কম বয়সী শিশুদের সাধারণত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া হয় না, কারণ এই বয়সে কৃমির সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। 

  • এই বয়সে নিয়ম করে কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া হয় না।
  • চিকিৎসক যদি কৃমির সংক্রমণ নিশ্চিত করেন, তাহলে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
  • চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া শিশুকে কখনও কৃমিনাশক ওষুধ দেবেন না।

১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুর কৃমিনাশক ওষুধ

১ থেকে ২ বছর বয়সী ছোট শিশুদের কৃমির সংক্রমণ বেশ সাধারণ। তবে উপযুক্ত কৃমিনাশক সিরাপের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যেতে পারে।

  • উপযুক্ত ওষুধ: অ্যালবেনডাজল
  • পছন্দের ধরন: সিরাপ বা তরল ওষুধ, যা ছোট শিশুকে খাওয়ানো সহজ।
  • সাধারণ মাত্রা: সাধারণত শিশুর ওজন অনুযায়ী কম মাত্রায় দেওয়া হয়।

২ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুর কৃমিনাশক ওষুধ

২ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুরা আশপাশের পরিবেশ থেকে সুতো কৃমি বা গোলকৃমির সংস্পর্শে আসতে পারে।

  • উপযুক্ত ওষুধ: অ্যালবেনডাজল, মেবেনডাজল অথবা পাইরান্টেল পামোয়েট
  • পছন্দের ধরন: চিবিয়ে খাওয়ার বড়ি
  • সাধারণ মাত্রা: ছোট শিশুদের তুলনায় মাত্রা বেশি হতে পারে, তবে তা শিশুর ওজন ও ব্যবহৃত ওষুধের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

শিশুদের জন্য কৃমিনাশক সিরাপ নাকি বড়ি, কোনটি ভালো?

শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধ সাধারণত দুই ধরনের হয়—সিরাপ ও বড়ি। আপনার শিশুর জন্য কোনটি বেশি উপযুক্ত হবে, তা তার বয়স, বড়ি গিলে খাওয়ার ক্ষমতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।

বিষয়

সিরাপ

বড়ি

সহজে খাওয়া যায় কি না

হ্যাঁ, ছোট শিশুদের জন্য উপযুক্ত

চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন

উপযুক্ত বয়স

১ বছর বয়স থেকে

সাধারণত ২ বছর ও তার বেশি বয়সে

সঠিক মাত্রা দেওয়া

শিশুর ওজন অনুযায়ী সহজে মাপা যায়

প্রতি বড়িতে নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে

ব্যবহারের সুবিধা

মাপার চামচ বা পাত্র প্রয়োজন

সহজ, আলাদা করে মাপার প্রয়োজন নেই

ভারতে শিশুদের জন্য জীল্যাব ফার্মেসির সুপারিশ করা সেরা কৃমিনাশক সিরাপ ও বড়ি

বিশ্বস্ত কৃমিনাশক সিরাপ ও বড়ি বেছে নিতে জীল্যাব ফার্মেসি থেকে শিশুদের বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ নিতে পারেন। শিশুদের জন্য সহজে ব্যবহার করা যায় এমন বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এখানে পাওয়া যায়, যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমির সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

বানজোল ৪০০ কৃমিনাশক বড়ি

বানজোল ৪০০ হলো অ্যালবেনডাজলযুক্ত কৃমিনাশক বড়ি, যা শিশুদের অন্ত্রের কৃমির সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

  • উপাদান: অ্যালবেনডাজল ৪০০ মিলিগ্রাম
  • উপকারিতা: অন্ত্রের কৃমির সংক্রমণের চিকিৎসায় সাহায্য করে এবং পরজীবী কৃমি দূর করতে সহায়তা করে।
  • যেসব কৃমির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়: গোলকৃমি, হুককৃমি, চাবুক কৃমি, সুতো কৃমি, ফিতাকৃমি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল কৃমি।
  • কোন বয়সের শিশুদের জন্য উপযুক্ত: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণত ২ বছর ও তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

বানজোল মুখে খাওয়ার তরল ওষুধ

বানজোল মুখে খাওয়ার তরল ওষুধ হলো অ্যালবেনডাজলযুক্ত কৃমিনাশক ওষুধ, যা বড়ি গিলে খেতে অসুবিধা হয় এমন শিশুদের জন্য উপযোগী।

  • উপাদান: অ্যালবেনডাজল ২০০ মিলিগ্রাম
  • উপকারিতা: অন্ত্রের কৃমির সংক্রমণের চিকিৎসায় সাহায্য করে এবং সংবেদনশীল পরজীবী কৃমি দূর করতে সহায়তা করে।
  • যেসব কৃমির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়: গোলকৃমি, হুককৃমি, চাবুক কৃমি, সুতো কৃমি, ফিতাকৃমি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল কৃমি।
  • কোন বয়সের শিশুদের জন্য উপযুক্ত: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে উপযুক্তভাবে ব্যবহার করা যায়।

শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধের মাত্রা সম্পর্কে নির্দেশিকা

শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধের সঠিক মাত্রা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বয়স, ওজন, কৃমির ধরন এবং আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করা হয়। 

এই বিষয়গুলি পর্যালোচনা করার পর চিকিৎসক শিশুর জন্য কোন ওষুধ এবং কতটা মাত্রা উপযুক্ত, তা নির্ধারণ করেন।

কোন বিষয়টি ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করে?

কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

শিশুর বয়স

বড় শিশুদের তুলনায় কম বয়সী শিশুদের ওষুধের মাত্রা বা ওষুধের ধরন আলাদা হতে পারে।

ওষুধের ধরন

অ্যালবেনডাজল, মেবেনডাজল এবং অন্যান্য কৃমিনাশক ওষুধের মাত্রা ব্যবহারের নিয়ম আলাদা হতে পারে।

কৃমির ধরন

কোন ধরনের কৃমির কারণে সংক্রমণ হয়েছে, তার ওপর চিকিৎসার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে।

ওষুধের শক্তি

বিভিন্ন সিরাপ ও বড়িতে ওষুধের পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

চিকিৎসার কারণ

নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া এবং নিশ্চিত কৃমির সংক্রমণের চিকিৎসার সময়সূচি আলাদা হতে পারে।

শিশুকে কীভাবে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াবেন?

ভারতের জাতীয় কৃমিনাশক দিবসের নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় অ্যালবেনডাজল দেওয়ার ক্ষেত্রে ওষুধ খালি পেটে দেওয়া যেতে পারে এবং বড়ি হলে শিশুকে তা ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে দেওয়া উচিত। 

  • সাধারণত দিনের যেকোনো সময়ে কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া যায়। তবে পেটে অস্বস্তি কমানোর জন্য অনেক চিকিৎসক সকালে বা খাবার খাওয়ার পর ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
  • ওষুধ খাওয়ার পরপরই শিশু বমি করলে আবার ওষুধ দিতে হবে কি না, তা জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • ওষুধের নির্ধারিত মাত্রা খাওয়াতে ভুলে গেলে একসঙ্গে দ্বিগুণ মাত্রা দেবেন না। কী করা উচিত, তা চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন।
  • কৃমির ধরন অনুযায়ী আবার ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হতে পারে, কখনও কখনও ২ সপ্তাহ পর।

কৃমিনাশক ওষুধ কাজ করতে কত সময় লাগে?

কৃমিনাশক ওষুধ কাজ করতে কতটা সময় লাগবে, তা কৃমির ধরন, সংক্রমণের মাত্রা এবং শিশুর শরীরের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।

  • প্রথম ২৪ ঘণ্টায়: ওষুধ কাজ শুরু করে, তবে উপসর্গ সঙ্গে সঙ্গে কমে নাও যেতে পারে।
  • ২ বা ৩ দিন পর: পেটে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা এবং পেটে ব্যথা কমতে শুরু করতে পারে।
  • ১ সপ্তাহের মধ্যে: কৃমির কারণে উপসর্গ হয়ে থাকলে খিদে, কর্মশক্তি এবং সামগ্রিক স্বস্তির উন্নতি হতে পারে।
  • মলের সঙ্গে কৃমি: কখনও কখনও মৃত কৃমি মলের সঙ্গে দেখা যেতে পারে, তবে সবসময় এমনটা হয় না।

শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অ্যালবেনডাজল এবং অন্যান্য প্রচলিত কৃমিনাশক ওষুধ সাধারণত শরীর ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। তবে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে হালকা কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন: 

  • হালকা পেটে ব্যথা
  • পাতলা পায়খানা
  • বমি বমি ভাব
  • বমি
  • মাথাব্যথা
  • সাময়িকভাবে খিদে কমে যাওয়া

শিশুকে কি প্রাকৃতিক উপায়ে কৃমিমুক্ত করা যায়?

কৃমিনাশক ওষুধের পাশাপাশি কিছু খাবার খাদ্যনালির সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। যেমন:

  • পেঁপে
  • কুমড়োর বীজ
  • রসুন
  • হলুদ
  • আঁশযুক্ত খাবার

এসব খাবার খাদ্যনালির সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে, তবে নিশ্চিত কৃমির সংক্রমণের চিকিৎসায় প্রমাণিত কৃমিনাশক ওষুধের বিকল্প নয়। তাই এগুলিকে সহায়ক খাদ্যাভ্যাস হিসেবে রাখুন, চিকিৎসার পরিবর্তে নয়।

শিশুদের আবার কৃমির সংক্রমণ হওয়া কীভাবে ঠেকাবেন?

কৃমির সংক্রমণের কারণে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে। সঠিক ওষুধ ও চিকিৎসার পরেও কখনও কখনও আবার কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। এটি ঠেকাতে অভিভাবক হিসেবে কিছু বিষয় মেনে চলুন:

  • নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করান, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে
  • শিশুর নখ নিয়মিত ছোট করে কাটুন
  • বাইরে বের হলে শিশু যেন জুতো বা চটি পরে থাকে, তা নিশ্চিত করুন
  • ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিন
  • বিশেষ করে মাংস ভালোভাবে রান্না করে খাওয়ান
  • পান করার জন্য পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন
  • শিশুর জামাকাপড় ও বিছানার চাদর নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন
  • চিকিৎসক পরামর্শ দিলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও চিকিৎসা করান
  • পরামর্শ দেওয়া হলে নির্দিষ্ট সময় পর আবার কৃমিনাশক ওষুধ দিন

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে গুরুতর জটিলতা এড়াতে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন:

  • চিকিৎসার পরেও উপসর্গ থেকে যাওয়া
  • মলের সঙ্গে রক্ত থাকা
  • কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • বারবার কৃমির সংক্রমণ হওয়া
  • একটানা বমি হওয়া
  • তীব্র পাতলা পায়খানা হওয়া
  • শিশুর বয়স ১ বছরের কম এবং কৃমির সংক্রমণের আশঙ্কা থাকা
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো শারীরিক সমস্যা থাকা

উপসংহার

শিশুদের মধ্যে কৃমির সংক্রমণ বেশ সাধারণ। তবে সঠিক কৃমিনাশক সিরাপ বা বড়ি দেওয়ার মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়। 

অ্যালবেনডাজল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কৃমিনাশক ওষুধগুলির মধ্যে একটি। কিছু পরিস্থিতিতে মেবেনডাজল ও পাইরান্টেল পামোয়েটও উপযুক্ত হতে পারে।

শিশুর বয়স ১ বছর হওয়ার পর নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ কৃমির সংক্রমণ থাকলেও অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। 

এর পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার শিক্ষা দিলে কৃমির সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

Frequently Asked Questions (FAQs)

Q1. শিশুর কৃমি দূর করার জন্য সবচেয়ে ভালো ওষুধ কোনটি?

Ans.বানজোল ৪০০ কৃমিনাশক বড়ি শিশুদের কৃমিনাশক চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ, যাতে ৪০০ মিলিগ্রাম অ্যালবেনডাজল রয়েছে।

Q2. শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো কৃমিনাশক সিরাপ কোনটি?

Ans.জীল্যাব ফার্মেসির বানজোল মুখে খাওয়ার তরল ওষুধে অ্যালবেনডাজল রয়েছে। যেসব শিশুর বড়ি গিলে খেতে অসুবিধা হয়, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই তরল ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

Q3. শিশুর কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োজন হওয়ার লক্ষণ কী কী?

Ans.মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি, পেটে ব্যথা, খিদে কমে যাওয়া, পাতলা পায়খানা, পেট ফাঁপা, দুর্বলতা, ঠিকমতো ওজন না বাড়া অথবা মলের সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া সাধারণ লক্ষণ।

Q4. শিশুদের কত বছর বয়স থেকে কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া শুরু করা উচিত?

Ans.ভারতে সাধারণত ১ বছর বয়স থেকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Q5. শিশুদের কত ঘন ঘন কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া উচিত?

Ans.কৃমির সংক্রমণের ঝুঁকি এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য নির্দেশিকার ওপর এর সময়সূচি নির্ভর করে। ভারতের জাতীয় কৃমিনাশক কর্মসূচির আওতায় উপযুক্ত শিশুদের বছরে দুবার কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া হয়।

Q6. ছোট শিশুকে কি কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া যায়?

Ans.১ বছরের কম বয়সী শিশুকে নিয়ম করে কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। কৃমির সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Q7. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কি কৃমিনাশক ওষুধ কেনা যায়?

Ans.অনেক কৃমিনাশক ওষুধের জন্য চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ প্রয়োজন হয় না। তবে শিশুর জন্য কোন ওষুধ উপযুক্ত এবং কতটা মাত্রায় দিতে হবে, তা নির্ধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Q8. কৃমিনাশক ওষুধ খাবারের আগে না পরে খাওয়া উচিত?

Ans.নির্দিষ্ট ওষুধের নির্দেশনা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। পেটে অস্বস্তি কমানোর জন্য সাধারণত খাবার খাওয়ার পর ওষুধ দেওয়া হয়।

Q9. কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার পর শিশু কি দুধ পান করতে পারে?

Ans.সাধারণত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার পর দুধ এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। তবে ওষুধের গায়ে দেওয়া নির্দেশনা বা চিকিৎসকের নির্দিষ্ট পরামর্শ মেনে চলুন।

Q10. কৃমিনাশক ওষুধ কাজ করতে কত সময় লাগে?

Ans.ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই কৃমির বিরুদ্ধে কাজ শুরু করতে পারে। তবে সংক্রমণের মাত্রার ওপর নির্ভর করে উপসর্গ কমতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

Q11. চিকিৎসার পর শিশুর মলের সঙ্গে কৃমি দেখা যাচ্ছে না কেন?

Ans.চিকিৎসার পর মলের সঙ্গে কৃমি দেখা না যাওয়া স্বাভাবিক। কৃমি শরীরের ভিতরেই হজম হয়ে যেতে পারে অথবা চোখে না পড়ার মতোভাবে মলের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। তাই কৃমি চোখে দেখা না গেলেও চিকিৎসা সফল হতে পারে।

Q12. কৃমিনাশক ওষুধ খেলে কি পাতলা পায়খানা হতে পারে?

Ans.হ্যাঁ, কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার পর সাময়িকভাবে হালকা পাতলা পায়খানা হতে পারে। তবে পাতলা পায়খানা বেশি হলে বা দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

Q13. কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার পর শিশু কি বিদ্যালয়ে যেতে পারে?

Ans.হ্যাঁ, শিশু ভালো বোধ করলে সাধারণত বিদ্যালয়ে যেতে পারে। তবে বেশি বমি, পাতলা পায়খানা বা অসুস্থতা থাকলে তাকে বাড়িতে বিশ্রামে রাখুন।

Q14. কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার পর শিশুকে কী খাবার দেওয়া উচিত?

Ans.চিকিৎসক আলাদা কোনো খাবার নিষেধ না করলে শিশুকে স্বাভাবিক ও সুষম খাবার দিন। খাবারের তালিকায় ফল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য, পুষ্টিকর আমিষ এবং পর্যাপ্ত তরল রাখুন।

Q15. কোনো লক্ষণ ছাড়াই কি শিশুর শরীরে কৃমি থাকতে পারে?

Ans.হ্যাঁ, শিশুর শরীরে কৃমি থাকলেও সবসময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিছু সংক্রমণ খুব হালকা হতে পারে বা কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই কৃমির সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি এমন এলাকায় প্রতিরোধমূলক কৃমিনাশক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

Recent Blogs


Disclaimer : Zeelab Pharmacy provides health information for knowledge only. Do not self-medicate. Always consult a qualified doctor before starting, stopping, or changing any medicine or treatment.


medicine cart

₹ 0

0

Items added


2026 Copyright By © Zeelab Pharmacy Private Limited. All Rights Reserved

Our Payment Partners

card
correct iconAdded!