facebook


হাইপোথাইরয়ডিজম বনাম হাইপারথাইরয়ডিজম: মূল পার্থক্য, উপসর্গ, কারণ, TSH মাত্রা, নির্ণয় ও চিকিৎসা

Image of Hypothyroidism vs Hyperthyroidism Image of Hypothyroidism vs Hyperthyroidism

ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা এতটাই সাধারণ যে প্রায় প্রত্যেকেরই আশেপাশে এমন কেউ আছেন যিনি এই রোগে ভুগছেন। ভারতে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মানুষ থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত, যা গলায় থাকা প্রজাপতি-আকৃতির গ্রন্থির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা ও শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

দুইটি সাধারণ রোগ হল হাইপোথাইরয়ডিজম এবং হাইপারথাইরয়ডিজম, যা যথাক্রমে থাইরয়েড গ্রন্থির কম কাজ করা ও বেশি কাজ করার কারণে হয়। 

একই গ্রন্থিকে প্রভাবিত করলেও এই দুই রোগ শরীরে একেবারে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

চলুন, উপসর্গ, কারণ, নির্ণয়, চিকিৎসা ইত্যাদির দিক থেকে হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজমের পার্থক্যগুলি বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

হাইপোথাইরয়ডিজম বনাম হাইপারথাইরয়ডিজম: দ্রুত তুলনামূলক টেবিল

বিষয়টি গভীরভাবে বোঝার আগে, চলুন দ্রুত এই দুইটি সাধারণ থাইরয়েড রোগ, অর্থাৎ হাইপারথাইরয়ডিজম ও হাইপোথাইরয়ডিজমের একটি তুলনা দেখে নেওয়া যাক।

বৈশিষ্ট্য

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপারথাইরয়ডিজম

থাইরয়েডের কার্যকলাপ

কম সক্রিয়

অতিরিক্ত সক্রিয়

হরমোনের মাত্রা

T₃ এবং T₄: কম

T₃ এবং T₄: বেশি

বিপাকক্রিয়া (Metabolism)

ধীর

দ্রুত

ওজন

ওজন বৃদ্ধি

ওজন কমে যাওয়া

হৃদস্পন্দন

কম

বেশি

শক্তি

দুর্বলতা

অস্থিরতা

ক্ষুধা

কমে যাওয়া বা স্বাভাবিক

বাড়তি ক্ষুধা

তাপমাত্রা সহনশীলতা

ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা

গরম সহ্য করতে না পারা

সাধারণ কারণ

হাশিমোটো রোগ (Hashimoto's disease), আয়োডিনের ঘাটতি

গ্রেভস রোগ (Graves' disease), টক্সিক নডিউল

সাধারণ চিকিৎসা

লেভোথাইরক্সিন (Levothyroxine)

অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন, অস্ত্রোপচার

থাইরয়েড গ্রন্থি কী? 

থাইরয়েড একটি ছোট প্রজাপতি-আকৃতির গ্রন্থি, যা গলায় অ্যাডামস অ্যাপল-এর ঠিক নিচে অবস্থিত। এর কাজ হল T₄ এবং T₃ হরমোন তৈরি করা, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইরয়েড গ্রন্থি কীভাবে কাজ করে?

থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন শোষণ করে এবং T₃ ও T₄ হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন, বিপাকক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। এটি নিচের ধাপগুলোর মাধ্যমে কাজ করে:

  • থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
  • TSH এরপর থাইরয়েড গ্রন্থিকে আরও বেশি হরমোন তৈরি করার সংকেত দেয়।
  • থাইরয়েড গ্রন্থি তখন থাইরক্সিন (T₄) এবং ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন (T₃) তৈরি করে।
  • T₃ এবং T₄ শরীরের তাপমাত্রা, বৃদ্ধি, বিপাকক্রিয়া ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

হাইপোথাইরয়ডিজম কী?

হাইপোথাইরয়ডিজম তখন হয় যখন আপনার থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে পারে না। এতে শরীরের বিভিন্ন জৈবিক কাজ ধীর হয়ে যায় এবং উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে শারীরিক ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং সবসময় ঠান্ডা লাগা।

ভারতের আটটি শহরে করা এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জনের হাইপোথাইরয়ডিজম রয়েছে।

হাইপারথাইরয়ডিজম কী?

হাইপারথাইরয়ডিজম তখন হয় যখন থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং ওজন কমে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন (Tachycardia), উদ্বেগ ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজম: মূল পার্থক্য 

হাইপোথাইরয়ডিজম এবং হাইপারথাইরয়ডিজমের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো হল:

বৈশিষ্ট্য

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপারথাইরয়ডিজম

হরমোন উৎপাদন

কম

বেশি

বিপাকক্রিয়া

ধীর

দ্রুত

শরীরের ওজন

বাড়ে

কমে

ক্ষুধা

স্বাভাবিক বা কমে যায়

বাড়ে

হৃদস্পন্দন

ধীর

দ্রুত

রক্তচাপ

কম বা স্বাভাবিক থাকতে পারে

প্রায়ই বেড়ে যায়

শরীরের তাপমাত্রা

সবসময় ঠান্ডা লাগে

সবসময় গরম লাগে

মনের অবস্থা

হতাশা, মন খারাপ

উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ

ঘুম

অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব

ঘুমাতে সমস্যা

হজম

কোষ্ঠকাঠিন্য

বারবার পায়খানা হওয়া

মাসিক চক্র

অতিরিক্ত রক্তপাত বা অনিয়মিত মাসিক

কম রক্তপাত বা অনিয়মিত মাসিক

চুল

শুষ্ক, পাতলা চুল

নরম, পাতলা চুল

ত্বক

শুষ্ক ও রুক্ষ

গরম ও স্যাঁতসেঁতে

চোখ

সাধারণত স্বাভাবিক

গ্রেভস রোগে (Graves' disease) চোখ ফুলে বেরিয়ে আসা

কোলেস্টেরল

প্রায়ই বেশি থাকে

প্রায়ই কম থাকে

হাইপোথাইরয়ডিজম বনাম হাইপারথাইরয়ডিজমের উপসর্গ

এই দুই ধরনের থাইরয়েড রোগ শরীরে কতটা থাইরয়েড হরমোন তৈরি হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে এবং ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গের মাধ্যমে হাইপারথাইরয়ডিজম ও হাইপোথাইরয়ডিজমকে আলাদা করে চেনা যায়।

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপারথাইরয়ডিজম

ওজন বৃদ্ধি

ওজন কমে যাওয়া

অতিরিক্ত ক্লান্তি

অস্থিরতা

ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা

গরম সহ্য করতে না পারা

হৃদস্পন্দন ধীর হওয়া

হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া

শুষ্ক ত্বক

ঘেমে যাওয়া ত্বক

কোষ্ঠকাঠিন্য

বারবার পায়খানা হওয়া

হতাশা

উদ্বেগ

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া

চুল পড়ে যাওয়া

মুখ ফোলা

গ্রেভস রোগে (Graves' disease) চোখ ফুলে বেরিয়ে আসা

পেশি দুর্বলতা

পেশিতে কাঁপুনি

হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজমের কারণ কী? 

বিভিন্ন কারণে থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে বা বেড়ে যেতে পারে। সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কারণটি জানা খুবই জরুরি।

হাশিমোটো থাইরয়ডাইটিস (Hashimoto’s thyroiditis) হল হাইপোথাইরয়ডিজমের সবচেয়ে সাধারণ কারণ, আর গ্রেভস রোগ (Graves’ disease) হল হাইপারথাইরয়ডিজমের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপারথাইরয়ডিজম

হাশিমোটো থাইরয়ডাইটিস (Hashimoto's thyroiditis)

গ্রেভস রোগ (Graves' disease)

থাইরয়েড অস্ত্রোপচার

টক্সিক থাইরয়েড নডিউল

রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন চিকিৎসা

থাইরয়ডাইটিস (Thyroiditis)

আয়োডিনের ঘাটতি

অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ

হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজম কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

থাইরয়েড রোগ (হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজম) সাধারণত উপসর্গ, রোগীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা দেখে নির্ণয় করা হয়।

স্বাস্থ্যকর্মীরা নিচের পরীক্ষাগুলো করতে পারেন: 

পরীক্ষা

কেন করা হয়

TSH (Thyroid Stimulating Hormone)

থাইরয়েডের কাজ কেমন হচ্ছে তা বোঝার প্রাথমিক স্ক্রিনিং পরীক্ষা।

Free T₃

শরীরে সক্রিয় থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা নির্ণয় করে, যা হাইপারথাইরয়ডিজম নির্ণয়ে সাহায্য করে।

Free T₄

থাইরক্সিনের মাত্রা জানতে, থাইরয়েড কম নাকি বেশি কাজ করছে তা বোঝার জন্য।

থাইরয়েড অ্যান্টিবডি টেস্ট

হাশিমোটো থাইরয়ডাইটিস (Hashimoto's thyroiditis) ও গ্রেভস রোগ (Graves' disease)–এর মতো অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড

থাইরয়েড গ্রন্থির আকার, গঠন, নডিউল বা গয়টার (Goitre) আছে কি না তা দেখার জন্য।

রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন আপটেক (RAIU) টেস্ট

থাইরয়েড কতটা আয়োডিন শোষণ করছে তা মাপা হয়, যা হাইপারথাইরয়ডিজমের কারণ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

TSH, T₃ এবং T₄ মাত্রা বোঝা

TSH, T₃ এবং T₄–এর মাত্রা দেখে বোঝা যায় একজন ব্যক্তি কোন ধরনের থাইরয়েড রোগে ভুগছেন। 

  • TSH বেশি, বিশেষ করে T₄ কম থাকলে সাধারণত হাইপোথাইরয়ডিজম বোঝায়।
  • অন্যদিকে TSH কম এবং T₄ বেশি থাকলে হাইপারথাইরয়ডিজমের ইঙ্গিত দেয়।

হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা সাধারণত নিচের মতো হয়:

পরীক্ষা

স্বাভাবিক অবস্থা

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপারথাইরয়ডিজম

TSH

০.৪–৪.০ mIU/L 

বেশি (সাধারণত >৪.০ mIU/L) 

কম (সাধারণত

Free T₃

৩.১–৬.৮ pmol/L 

কম বা স্বাভাবিক 

বেশি

Free T₄

১২–২২ pmol/L 

কম 

বেশি

বিপাকক্রিয়া (Metabolism)

স্বাভাবিক

ধীর

দ্রুত

হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজমের চিকিৎসা

হাইপারথাইরয়ডিজম ও হাইপোথাইরয়ডিজমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ ও ব্যবস্থাগুলো হল:

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপারথাইরয়ডিজম

লেভোথাইরক্সিন (Levothyroxine) হরমোন রিপ্লেসমেন্ট

অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ (Methimazole, Carbimazole এবং Propylthiouracil)

নিয়মিত থাইরয়েড রক্ত পরীক্ষা

উপসর্গ কমাতে বিটা ব্লকার (Beta Blocker)

সুস্থ জীবনযাপন

রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি

অনেক ক্ষেত্রে আজীবন চিকিৎসা

নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার

আরও পড়ুন: থাইরয়েড রোগীদের জন্য সেরা খাবার

হাইপোথাইরয়ডিজম কি হাইপারথাইরয়ডিজমে (বা উল্টোটা) রূপ নিতে পারে?

এই দুই রোগ একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন হতে পারে।

  • রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর হাইপারথাইরয়ডিজম থেকে হাইপোথাইরয়ডিজম হতে পারে।
  • কম হলেও, কিছু অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের ক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়ডিজম থেকে হাইপারথাইরয়ডিজমে পরিবর্তন হতে পারে।
  • একই সময়ে একজন ব্যক্তির শরীরে এই দুই রোগ একসঙ্গে থাকে না।

কোনটি বেশি বিপজ্জনক: হাইপোথাইরয়ডিজম না হাইপারথাইরয়ডিজম?

এই বিষয়টি নিয়ে পড়ার সময় প্রায় সবার মনেই এই প্রশ্ন আসে। এর উত্তর হল, কোনোটিকেই এককভাবে বেশি বিপজ্জনক বলা যায় না। 

দুটোই চিকিৎসা না করলে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। সম্ভাব্য জটিলতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

শরীরের অংশ

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপারথাইরয়ডিজম

হৃদযন্ত্র

উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হার্ট ফেইলিউর

হাড়

সামান্য প্রভাব

হাড় ক্ষয়, অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis)

মস্তিষ্ক

হতাশা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া

উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ

গর্ভাবস্থা

গর্ভপাত, শিশুর বিকাশে সমস্যা

অকাল প্রসব, গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা

শিশু

বৃদ্ধি ধীর হওয়া

বৃদ্ধি ও বিকাশে সমস্যা

থাইরয়েড রোগ কি প্রতিরোধ করা যায়?

সব সময় থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিরোধ করা যায় না, বিশেষ করে অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রে। তবে থাইরয়েড সুস্থ রাখতে কিছু বিষয় মেনে চলা যেতে পারে:

  • যথেষ্ট আয়োডিন নিন, কিন্তু অতিরিক্ত নয়।
  • আপনার থাইরয়েডের ওষুধ সঠিকভাবে সেবন করুন
  • অটোইমিউন রোগ থাকলে সেগুলোর সঠিক ওষুধে চিকিৎসা করুন
  • পরিবারে কারও থাইরয়েডের ইতিহাস থাকলে থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করান
  • যদি পারিবারিক ইতিহাস থাকে, নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করিয়ে নিন।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যান

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

সঠিক মূল্যায়ন ও থাইরয়েড পরীক্ষা রোগের মূল কারণ নির্ণয় করতে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে সাহায্য করে। নিচের যেকোনো উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • সবসময় ক্লান্ত লাগা
  • হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, যার স্পষ্ট কারণ নেই
  • হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত বা খুব ধীর হওয়া
  • গলায় ফোলা বা গয়টার দেখা দেওয়া
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল পড়া
  • অনিয়মিত মাসিক
  • উদ্বেগ, হতাশা বা আচরণে পরিবর্তন
  • অন্যদের তুলনায় বেশি গরম বা বেশি ঠান্ডা লাগা

উপসংহার

সংক্ষেপে বলতে গেলে, হাইপোথাইরয়ডিজম ও হাইপারথাইরয়ডিজম হল থাইরয়েড গ্রন্থির দুইটি খুবই সাধারণ রোগ, যা গ্রন্থিটির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়ার কারণে হয়।

হাইপোথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে পারে না। আর হাইপারথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। দুটির উপসর্গ ও চিকিৎসা পদ্ধতি একে অপরের থেকে আলাদা।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়া, সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে থাইরয়েডের রোগীরা খুব ভালোভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন।

Recent Blogs


Disclaimer : Zeelab Pharmacy provides health information for knowledge only. Do not self-medicate. Always consult a qualified doctor before starting, stopping, or changing any medicine or treatment.


medicine cart

₹ 0

0

Items added


2026 Copyright By © Zeelab Pharmacy Private Limited. All Rights Reserved

Our Payment Partners

card
correct iconAdded!