facebook


ডেঙ্গু জ্বরের ওষুধ: চিকিৎসা, যে বড়িগুলি এড়াবেন ও সুস্থ হওয়ার নির্দেশিকা

Medicine for Dengue Fever Medicine for Dengue Fever

ডেঙ্গু জ্বর একটি সাধারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মূলত স্ত্রী এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। আগে ডেঙ্গু জ্বরকে একটি নির্দিষ্ট ঋতুর রোগ বলে মনে করা হতো, কিন্তু এখন বছরের যেকোনো সময়েই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে প্রচণ্ড জ্বর, শরীরে তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ সঠিক যত্ন ও চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় সরাসরি ভাইরাস ধ্বংস করার মতো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। এর পরিবর্তে রোগীর সঠিক যত্ন নেওয়া হয় এবং উপসর্গ কমানোর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়।

ডেঙ্গু জ্বরে জ্বর, পেশিতে ব্যথা ও মাথাব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়।

এই লেখায় আমরা ডেঙ্গু জ্বর, এর চিকিৎসা ও যত্ন, কোন ওষুধ ব্যবহার করা যায় এবং কোন ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত, সে সম্পর্কে জানব।

ডেঙ্গু জ্বর কী?

ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। 

এই মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার জলে বংশবিস্তার করে। এরা দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে, বেশি কামড়ায় এবং সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

সাধারণত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হতে ১ থেকে ২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে সুস্থ হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন দুর্বলতা থাকতে পারে। ডেঙ্গুর ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করে এমন নির্দিষ্ট ওষুধ না থাকলেও কিছু ওষুধ এর সঙ্গে দেখা দেওয়া উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ উপসর্গ

সংক্রমিত মশার কামড়ের প্রায় ৪ থেকে ১০ দিন পর ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • প্রচণ্ড জ্বর, যা কখনও কখনও ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠতে পারে
  • তীব্র মাথাব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা
  • পেশি, গাঁট ও সারা শরীরে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া
  • ত্বকে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া
  • দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • খিদে কমে যাওয়া
  • পেটে তীব্র ব্যথা বা বারবার বমি হওয়া (গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষণ)

ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ কমানোর জন্য ব্যবহৃত ওষুধ ও চিকিৎসা

ডেঙ্গু জ্বর ও এর উপসর্গ থেকে স্বস্তি পেতে এমন ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, যা জ্বর, ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। কারণ, মানুষের শরীরের ভেতরে ডেঙ্গুর ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই।

ডেঙ্গুর উপসর্গ কমাতে বা রোগীর যত্ন নিতে যে ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবহার করা হতে পারে, সেগুলি নিচে উল্লেখ করা হলো। 

ওষুধ বা চিকিৎসার ধরন

কী কাজে লাগে

প্যারাসিটামল

জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

খাওয়ার স্যালাইন ও অন্যান্য পানীয়

ঘাম বা বমির কারণে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

শিরার মাধ্যমে তরল দেওয়া

মুখে পর্যাপ্ত তরল পান করা সম্ভব না হলে বা জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে শিরার মাধ্যমে তরল দেওয়া হয়।

ডেঙ্গু জ্বরে প্যারাসিটামলের ব্যবহার: নিরাপত্তা ও চিকিৎসা

ডেঙ্গুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সময় শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধ। এটি ডেঙ্গুর ভাইরাস ধ্বংস করে না, তবে রোগের কারণে হওয়া অস্বস্তিকর উপসর্গগুলি কমাতে সাহায্য করে।

ডেঙ্গু জ্বরে প্যারাসিটামল খাওয়ার সময় যে সতর্কতাগুলি মেনে চলা জরুরি, সেগুলি হলো:

  • চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধটি খান।
  • প্যারাসিটামল রয়েছে এমন একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খাবেন না।
  • প্যারাসিটামলের মাত্রা বয়স ও ওজনের ওপর নির্ভর করে। তাই শিশুদের এই ওষুধ দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাবেন না। জ্বর না কমলে বা উপসর্গ আরও বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের বড়ি ও অন্যান্য পণ্য

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সময় শরীরে পর্যাপ্ত জল ও প্রয়োজনীয় লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জ্বর নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। খাওয়ার স্যালাইন শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া জল ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। অন্যদিকে, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খেলে জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমতে পারে।

জিল্যাব খাওয়ার স্যালাইন গুঁড়ো

জিল্যাব খাওয়ার স্যালাইন গুঁড়ো একটি পানীয় স্যালাইন, যা ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার সময় ঘাম বা বমির কারণে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

  • উপাদান: সোডিয়াম ক্লোরাইড (২.৬ গ্রাম) + পটাশিয়াম ক্লোরাইড (১.৫ গ্রাম) + সোডিয়াম সাইট্রেট (২.৯ গ্রাম) + ডেক্সট্রোজ (১৩.৫ গ্রাম)
  • উপকারিতা: শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া জল ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি পূরণ করে এবং শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

প্যারাজেক্স এক্সটি বড়ি

প্যারাজেক্স এক্সটি বড়িতে ৬৫০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করলে এই ওষুধ ডেঙ্গুজনিত জ্বর, শরীরের ব্যথা ও মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

  • উপাদান: প্যারাসিটামল (৬৫০ মিলিগ্রাম)
  • উপকারিতা: জ্বর কমাতে এবং হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।

ডেঙ্গু জ্বরে কোন কোন ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত?

আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ অনেক সময় সাধারণ জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বর সাধারণ জ্বরের মতো নয়। এই ওষুধগুলি রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়াতে পারে। তাই ডেঙ্গু হয়েছে বলে সন্দেহ হলে এই ওষুধগুলি এড়িয়ে চলা জরুরি।

ওষুধের নাম

কেন এড়িয়ে চলবেন

অ্যাসপিরিন

রক্তের অণুচক্রিকার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করতে পারে এবং রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

আইবুপ্রোফেন

রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়াতে পারে এবং পাকস্থলী সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

ডাইক্লোফেনাক

এটি প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর এক ধরনের ওষুধ, যা রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

ন্যাপ্রোক্সেন

এটিও প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর ওষুধ। রক্তপাতের সম্ভাব্য জটিলতার কারণে এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের উপায়

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এই রোগ ছড়ানোর বাহক, অর্থাৎ স্ত্রী এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডেঙ্গুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণের আশঙ্কাও কমানো যায়।  

  • বাতানুকূল যন্ত্রের জলাধার, ফুলের টব, বালতি এবং অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা জল ফেলে দিন ও পাত্রগুলি পরিষ্কার রাখুন।
  • পণ্যের গায়ে দেওয়া নির্দেশ মেনে উপযুক্ত মশা তাড়ানোর উপকরণ ব্যবহার করুন।
  • মশার কামড় থেকে বাঁচতে পুরো হাতা জামা ও লম্বা পায়ের পোশাক পরুন।
  • জানালায় মশা আটকানোর জাল লাগান এবং মশারি ব্যবহার করুন।

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হতে বাড়িতে যত্ন নেওয়ার অতিরিক্ত উপায়

ডেঙ্গু প্রতিরোধের নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে বাড়িতে কিছু সহজ যত্নের অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

  • শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করতে বেশি করে জল, খাওয়ার স্যালাইন এবং অন্যান্য তরল পান করুন।
  • অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন এবং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
  • ডেঙ্গু জ্বরে সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর খাবার খান। যেমন—খিচুড়ি, ডাল, ভাত, কলা ও স্যুপ। এ বিষয়ে ডেঙ্গু জ্বরের সময় খাবার সম্পর্কে আরও জানতে পারেন। 
  • শুধু জ্বর কমে গেছে বলে ধরে নেবেন না যে রোগটি সেরে উঠছে।
  • মশা তাড়ানোর উপকরণ, শরীর ঢাকা পোশাক ও মশারি ব্যবহার করে মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

ডেঙ্গু রোগীকে কখন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়?

ডেঙ্গুর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন:

  • পেটে তীব্র ব্যথা বা পেটে চাপ দিলে ব্যথা হওয়া।
  • বারবার বমি হওয়া বা পানীয় পান করার পর তা পেটে রাখতে না পারা।
  • নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া।
  • মল বা বমির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া।
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
  • প্রচণ্ড দুর্বলতা, অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি দেখা দেওয়া।
  • ত্বক ঠান্ডা, ফ্যাকাশে বা স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়া।
  • প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

উপসংহার

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য উপসর্গের দিকে নজর রাখা, পর্যাপ্ত তরল পান করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি। ডেঙ্গু জ্বরের জন্য উপযুক্ত ওষুধের কথা ভাবলে, মৃদু উপসর্গের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। এটি জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। 

রক্তপাতের আশঙ্কার কারণে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও ন্যাপ্রোক্সেন সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাবেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরেও বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

Frequently Asked Questions (FAQs)

Q1. ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় কোন কোন ওষুধ সাহায্য করতে পারে?

Ans.ডেঙ্গু জ্বর, পেশির ব্যথা ও মাথাব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। তবে এটি মানুষের শরীরে থাকা ডেঙ্গুর ভাইরাসকে সরাসরি ধ্বংস করে না। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী এই ওষুধ গ্রহণ করুন।

Q2. ডেঙ্গু কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

Ans.ডেঙ্গু শনাক্ত করতে রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসার পূর্ব ইতিহাস এবং রক্ত পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হয়। অসুস্থতার কত দিন হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা, আরটি-পিসিআর পরীক্ষা অথবা অ্যান্টিবডি পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

Q3. ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত কত তাপমাত্রা থাকে?

Ans.ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০২–১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮.৯–৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে শুধু শরীরের তাপমাত্রা দেখে ডেঙ্গু নিশ্চিত করা যায় না বা রোগ কতটা গুরুতর, তা বোঝা যায় না।

Q4. ডেঙ্গু জ্বর কীভাবে সারানো যায়?

Ans.ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে পর্যাপ্ত তরল পান করা, বিশ্রাম নেওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল গ্রহণ করা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি। বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। প্যারাসিটামল জ্বর ও শরীরের ব্যথার মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে, তবে এটি ডেঙ্গুর ভাইরাস ধ্বংস করে না।

Q5. ডেঙ্গু জ্বরের সময় কি প্যারাসিটামল খাওয়া যায়?

Ans.হ্যাঁ, ডেঙ্গুজনিত জ্বর ও ব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। তবে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ওষুধটি গ্রহণ করুন। অতিরিক্ত প্যারাসিটামল খেলে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে।

Q6. ডেঙ্গু জ্বরের সময় কোন ওষুধগুলি এড়িয়ে চলা উচিত?

Ans.ডেঙ্গু হলে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও ন্যাপ্রোক্সেন এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়াতে পারে। ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Q7. ডেঙ্গুর চিকিৎসায় কি জীবাণুনাশক ওষুধ খাওয়া যায়?

Ans.না, ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয় বলে জীবাণুনাশক ওষুধ দিয়ে এর চিকিৎসা করা যায় না। তবে একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে বা তা নিশ্চিত হলে চিকিৎসক এই ধরনের ওষুধ দিতে পারেন।

Q8. ডেঙ্গু কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

Ans.জমে থাকা জল সরিয়ে ফেলুন, মশা তাড়ানোর উপকরণ ব্যবহার করুন, শরীর ঢাকা পোশাক পরুন এবং জানালায় মশা আটকানোর জাল লাগান। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিকেও মশার কামড় থেকে রক্ষা করুন, যাতে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা কমে।

Q9. ডেঙ্গুর চিকিৎসা কি বাড়িতে করা যায়?

Ans.মৃদু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পর্যাপ্ত তরল পান করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে বাড়িতে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তবে বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিতে হবে।

Q10. ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে?

Ans.ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত ২–৭ দিন স্থায়ী হয়। পুরোপুরি সুস্থ হতে এক থেকে দুই সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে দুর্বলতা ও ক্লান্তি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

Q11. প্রাপ্তবয়স্কদের ডেঙ্গু জ্বরের গুরুতর উপসর্গগুলি কী কী?

Ans.ডেঙ্গুর গুরুতর উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি হওয়া, রক্তপাত, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বিভ্রান্তি, প্রচণ্ড দুর্বলতা এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া। এই লক্ষণগুলির যেকোনো একটি দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন।

Recent Blogs


Disclaimer : Zeelab Pharmacy provides health information for knowledge only. Do not self-medicate. Always consult a qualified doctor before starting, stopping, or changing any medicine or treatment.


medicine cart

₹ 0

0

Items added


2026 Copyright By © Zeelab Pharmacy Private Limited. All Rights Reserved

Our Payment Partners

card
correct iconAdded!