ভারতে ডায়াবেটিসের সেরা ওষুধ: রক্তে শর্করার ওষুধের নামের তালিকা ও ব্যবহার সম্পর্কে সম্পূর্ণ নির্দেশিকা
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা শরীর কীভাবে রক্তে থাকা শর্করা ব্যবহার করে, তা প্রভাবিত করে। ডায়াবেটিস হলে শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি হয় না অথবা শরীর সঠিকভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না।
ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং অন্যান্য রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস সামলাতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিসের ওষুধ বেছে নেওয়া বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে ডায়াবেটিসের ধরন, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারা বিশ্বে ৮৩ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিস নিয়ে জীবনযাপন করছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেরই এখনও রোগটি শনাক্ত হয়নি।
ইনসুলিন এবং মেটফর্মিন ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ওষুধ। সাধারণত প্রথম ধরনের ডায়াবেটিসে ইনসুলিন দেওয়া হয়, আর দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে মেটফর্মিন প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত একটি ওষুধ।
এই লেখায় ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ সম্পর্কে সহজভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
ডায়াবেটিস কী?
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা, যেখানে শরীর সঠিকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
সাধারণত ইনসুলিন রক্তে থাকা শর্করাকে শরীরের কোষে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, যেখানে তা শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইনসুলিনের পরিমাণ বা শরীরে এর কার্যকারিতায় পরিবর্তন হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
ডায়াবেটিস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং প্রতিটি ধরনের জন্য আলাদা ডায়াবেটিসের ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে:
- প্রথম ধরনের ডায়াবেটিস: শরীরে জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ইনসুলিন খুব কম পরিমাণে তৈরি হয় অথবা একেবারেই তৈরি হয় না।
- দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস: শরীর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না এবং সময়ের সঙ্গে ইনসুলিনের পরিমাণও কমে যেতে পারে।
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: গর্ভাবস্থায় দেখা দেওয়া এক ধরনের ডায়াবেটিস। এটি নিয়মিত নজরে রাখা এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস হলে কি সবারই ওষুধ প্রয়োজন?
ডায়াবেটিস হলেই সবার ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের প্রয়োজন হয় না, বিশেষ করে দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসের কিছু ক্ষেত্রে।
কখনও কখনও জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে বা শুধু জীবনযাপনে পরিবর্তন যথেষ্ট না হলে ডায়াবেটিসের ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
- কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস খাবারের নিয়ম, শরীরচর্চা এবং জীবনযাপনে অন্যান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে
- প্রথম ধরনের ডায়াবেটিসে ইনসুলিন প্রয়োজন
- রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে ডায়াবেটিসের ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে
- চিকিৎসা ডায়াবেটিসের ধরন, ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়
আরও পড়ুন: প্রথম ও দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস
ভারতে প্রচলিত ডায়াবেটিসের ওষুধের নামের তালিকা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নিচে কিছু প্রচলিত ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ দেওয়া হলো।
সঠিক ডায়াবেটিসের ওষুধের নাম, ধরন এবং মাত্রা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
|
ওষুধের নাম |
ওষুধের শ্রেণি |
কীভাবে কাজ করে |
|
মেটফর্মিন |
বিগুয়ানাইড |
শরীরে শর্করা তৈরির পরিমাণ কমায় |
|
গ্লাইমেপিরাইড এবং গ্লিক্লাজাইড |
সালফোনাইলইউরিয়া |
ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে |
|
সিটাগ্লিপটিন এবং লিনাগ্লিপটিন |
ডিপিপি-৪ প্রতিরোধক |
ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে |
|
ডাপাগ্লিফ্লোজিন এবং এমপাগ্লিফ্লোজিন |
এসজিএলটি-২ প্রতিরোধক |
প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত শর্করা শরীর থেকে বের করতে সাহায্য করে |
|
সেমাগ্লুটাইড এবং লিরাগ্লুটাইড |
জিএলপি-১ গ্রাহক সক্রিয়কারী |
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে |
|
পায়োগ্লিটাজোন |
টিজেডডি |
ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে |
|
অ্যাকারবোজ |
আলফা-গ্লুকোসিডেজ প্রতিরোধক |
শর্করা জাতীয় খাবার শরীরে শোষিত হওয়ার গতি কমায় |
|
মানব ইনসুলিন এবং ইনসুলিনের অনুরূপ ওষুধ |
ইনসুলিন |
শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের ঘাটতি পূরণ করে |
জিল্যাব ফার্মেসির ভারতে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ট্যাবলেটের তালিকা
জিল্যাব ফার্মেসি-তে সাধারণত ব্যবহৃত রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ এবং ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়।
নিচের ওষুধগুলি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ভালো উৎপাদন পদ্ধতি অনুযায়ী অনুমোদিত উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি করা হয়, যা নির্দিষ্ট মান বজায় রাখা এবং নিরাপদ উৎপাদনে সহায়তা করে।
|
ট্যাবলেটের নাম |
উপাদান |
|
মেট্রোজ ৫০০ |
মেটফর্মিন ৫০০ মিলিগ্রাম |
|
সিটাজি ৫০ |
সিটাগ্লিপটিন ৫০ মিলিগ্রাম |
|
ড্যাপাজি ৫ |
ডাপাগ্লিফ্লোজিন ৫ মিলিগ্রাম |
|
পায়োগ্লিটেক্স ১৫ |
পায়োগ্লিটাজোন ১৫ মিলিগ্রাম |
|
গ্লাইজি ৪ |
গ্লাইমেপিরাইড ৪ মিলিগ্রাম |
মেট্রোজ ৫০০ ট্যাবলেট
মেট্রোজ ৫০০ হলো মেটফর্মিনযুক্ত ডায়াবেটিসের একটি ট্যাবলেট, যা দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি যকৃতে শর্করা তৈরির পরিমাণ কমায় এবং ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সাড়া উন্নত করতে সাহায্য করে।
- উপাদান: মেটফর্মিন ৫০০ মিলিগ্রাম
- উপকারিতা: দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সিটাজি ৫০ ট্যাবলেট
সিটাজি ৫০ ট্যাবলেটে সিটাগ্লিপটিন রয়েছে, যা দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে এটি শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে।
- উপাদান: সিটাগ্লিপটিন ৫০ মিলিগ্রাম
- উপকারিতা: দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ড্যাপাজি ৫ ট্যাবলেট
ড্যাপাজি ৫ হলো ডাপাগ্লিফ্লোজিন যুক্ত ডায়াবেটিসের একটি ট্যাবলেট, যা দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে ব্যবহৃত হয়।
এটি এমন এক ধরনের ওষুধের অন্তর্ভুক্ত, যা কিডনির মাধ্যমে অতিরিক্ত শর্করা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
- উপাদান: ডাপাগ্লিফ্লোজিন ৫ মিলিগ্রাম
- উপকারিতা: দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
পায়োগ্লিটেক্স ১৫ ট্যাবলেট
পায়োগ্লিটেক্স ১৫ হলো পায়োগ্লিটাজোন যুক্ত ডায়াবেটিসের একটি ওষুধ। এটি ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে কোষগুলি আরও কার্যকরভাবে শর্করা ব্যবহার করতে পারে।
- উপাদান: পায়োগ্লিটাজোন ১৫ মিলিগ্রাম
- উপকারিতা: দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
গ্লাইজি ৪ ট্যাবলেট
গ্লাইজি ৪ হলো গ্লাইমেপিরাইডযুক্ত একটি ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট। এটি সালফোনাইলইউরিয়া শ্রেণির ওষুধ। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
- উপাদান: গ্লাইমেপিরাইড ৪ মিলিগ্রাম
- উপকারিতা: দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকরা কীভাবে সঠিক ডায়াবেটিসের ওষুধ বেছে নেন?
ডায়াবেটিসের ওষুধ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর বিষয়টি দেখা হয় না। চিকিৎসকরা সাধারণত চিকিৎসা শুরু বা পরিবর্তন করার আগে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেন।
- ডায়াবেটিসের ধরন: দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট দিতে পারেন।
- সামগ্রিক স্বাস্থ্য: হৃদরোগ বা কিডনির রোগের মতো অন্যান্য শারীরিক সমস্যা ওষুধ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি: কিছু ওষুধের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমে যেতে পারে বা পেটের সমস্যা হতে পারে।
- জীবনযাপন: প্রতিদিনের কাজকর্ম, খাবারের অভ্যাস এবং শরীরচর্চা চিকিৎসার ধরন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
- ইনসুলিন নেওয়ার সময়: কোন ধরনের ইনসুলিন ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর সময় নির্ভর করে। কিছু ইনসুলিন খাবারের সঙ্গে নেওয়া হয়, আবার কিছু দিনে এক বা দুইবার নেওয়া হতে পারে।
ডায়াবেটিসের ওষুধের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন ডায়াবেটিসের ওষুধের কারণে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছু ওষুধের সঙ্গে নির্দিষ্ট ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করলে রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
|
ওষুধের ধরন |
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া |
|
মেটফর্মিন |
বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, পেটে অস্বস্তি |
|
সালফোনাইলইউরিয়া |
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া |
|
এসজিএলটি-২ প্রতিরোধক |
বারবার প্রস্রাব হওয়া, যৌনাঙ্গ বা মূত্রনালির সংক্রমণ |
|
ডিপিপি-৪ প্রতিরোধক |
মাথাব্যথা, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা |
|
জিএলপি-১ ওষুধ |
বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য |
|
ইনসুলিন |
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া |
ডায়াবেটিসের ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরামর্শ
ডায়াবেটিসের ওষুধের পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু জীবনযাপনের পরিবর্তন করা যেতে পারে। ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণের সময় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ব্যক্তিগত পরিকল্পনায় থাকতে পারে:
- সুষম খাবার খাওয়া।
- চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া।
- নিয়মিত শরীরচর্চার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
- নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্ধারিত মাত্রায় ওষুধ খাওয়া।
- পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো।
আরও পড়ুন: ডায়াবেটিসে উপকারী সেরা খাবার
ডায়াবেটিস হলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা করানো উচিত। নিচের সমস্যাগুলি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত খুব বেশি বা খুব কম থাকে।
- বারবার রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
- নির্ধারিত ওষুধের কারণে বিরক্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যায় অথবা অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও বারবার প্রস্রাব হয়।
- দৃষ্টির ঝাপসাভাব, দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়।
- নিয়মিতভাবে ওষুধ খেতে অসুবিধা হয়।
- আপনি গর্ভবতী অথবা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন।
উপসংহার
ডায়াবেটিসের জন্য সঠিক ওষুধ নির্ভর করে ডায়াবেটিসের ধরন, রক্তে শর্করার মাত্রা, সামগ্রিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসার লক্ষ্যের উপর। সবার জন্য একই ডায়াবেটিসের ওষুধ বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ উপযুক্ত নয়।
সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা মেনে চলা, নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা ও এইচবিএ১সি পরীক্ষা করা।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিসের কোনও ওষুধ বা তার মাত্রা নিজে থেকে শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।
Table of Contents
Frequently Asked Questions (FAQs)
Ans.ইনসুলিন এবং মেটফর্মিন ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ওষুধ। প্রথম ধরনের ডায়াবেটিসে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়, আর দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিসে মেটফর্মিন সাধারণত ব্যবহার করা হয়। তবে কোন ওষুধটি উপযুক্ত হবে তা ডায়াবেটিসের ধরন, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।
Ans.রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাধারণত মেট্রোজ ৫০০ (মেটফর্মিন), সিটাজি ৫০ (সিটাগ্লিপটিন), ড্যাপাজি ৫ (ড্যাপাগ্লিফ্লোজিন), পায়োগ্লিটেক্স ১৫ (পায়োগ্লিটাজোন) এবং গ্লাইজি ৪ (গ্লাইমেপিরাইড) ব্যবহার করা হয়। এগুলি জিল্যাব ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।
Ans.চিকিৎসকরা ডায়াবেটিসের ধরন, রক্তে শর্করা ও এইচবিএ১সি-এর মাত্রা, বয়স, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য, ওজন, অন্যান্য ওষুধ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন বিবেচনা করেন।
Ans.বিভিন্ন ডায়াবেটিসের ওষুধ বিভিন্নভাবে রক্তে শর্করা কমায়। কিছু ওষুধ যকৃতে শর্করা তৈরির পরিমাণ কমায়, কিছু ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়, কিছু ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কিছু প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত শর্করা শরীর থেকে বের করে দেয়।
Ans.সব ক্ষেত্রে একটি পদ্ধতি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা, চিকিৎসার প্রয়োজন, শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসায় শরীরের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে চিকিৎসক ট্যাবলেট, ইনসুলিন অথবা দুটিই ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।
Ans.হ্যাঁ, অনুমোদিত সাধারণ ওষুধে একই সক্রিয় উপাদান ও একই মাত্রা থাকলে এবং নির্ধারিত গুণমানের মান পূরণ করলে সেগুলি সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
Ans.চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিসের ওষুধ ঠিকভাবে খাওয়া উচিত। কিছু ওষুধ খাবারের আগে বা খাবারের সঙ্গে খেতে হয়, আবার কিছু ওষুধ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া যায়।
Ans.ওষুধের নির্দেশিকা দেখে নিন অথবা চিকিৎসক বা ওষুধ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ না থাকলে একসঙ্গে দুই মাত্রার ওষুধ খাবেন না।
Ans.হ্যাঁ, কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ, বিশেষ করে ইনসুলিন এবং সালফোনাইলইউরিয়া শ্রেণির ওষুধ, রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমিয়ে দিতে পারে। খাবার বাদ দিলে বা অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ নিলে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।
Ans.রক্তে শর্করার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যবহৃত ওষুধের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, পেটের অস্বস্তি, ওজনের পরিবর্তন, বেশি প্রস্রাব হওয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া থাকতে পারে।
Ans.চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিসের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। কারণ উপযুক্ত ওষুধ ও মাত্রা আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
Ans.না। রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা চিকিৎসা কার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ওষুধে কোনো পরিবর্তন করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
Ans.ডায়াবেটিসের ওষুধ সাধারণত রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে, তবে স্থায়ীভাবে ডায়াবেটিস ভালো করে না। উপযুক্ত চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস কখনও কখনও নিয়ন্ত্রণের এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে কিছু সময়ের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা ওষুধ ছাড়াই স্বাভাবিক থাকতে পারে।
মেট্রোজ ৫০০ ট্যাবলেট (মেটফরমিন ৫০০ মিগ্রা) টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কার্যকর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য জিল্যাব ফার্মেসি থেকে মেট্রোজ ৫০০ ট্যাবলেট কিনুন।
10 Tablets In 1 Strip
Pioglitex 15 ট্যাবলেটে প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসের চিকিৎসার জন্য ১৫ মিগ্রা পাইওগ্লিটাজোন থাকে। Zeelab Pharmacy থেকে Pioglitazone 15mg Tablet কিনুন।
10 Tablets In 1 Strip
ডাপাজি ৫ অ্যান্টিডায়াবেটিক ট্যাবলেট (ডাপাগ্লিফ্লোজিন ৫ মিগ্রা) - দাম, উপকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ডোজ সম্পর্কে জানুন। টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসের জন্য ব্যবহৃত। কার্যকর নিয়ন্ত্রণের জন্য কীভাবে সেবন করবেন।
14 Tablets In 1 Strip
গ্লাইজ়ি ৪ ট্যাবলেটে রয়েছে গ্লাইমেপিরাইড ৪ মিগ্রা। টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসের চিকিৎসায় কার্যকর। সেরা দামে জিল্যাব ফার্মেসি থেকে গ্লাইমেপিরাইড ৪ ট্যাবলেট কিনুন।
15 Tablets In 1 Strip
সিটাজি ৫০ ট্যাবলেট (সিটাগ্লিপ্টিন ৫০ মিগ্রা) প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কার্যকর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য জিল্যাব ফার্মেসি থেকে সিটাজি ৫০ ট্যাবলেট কিনুন।
14 Tablets In 1 Strip
Recent Blogs
References
Disclaimer : Zeelab Pharmacy provides health information for knowledge only. Do not self-medicate. Always consult a qualified doctor before starting, stopping, or changing any medicine or treatment.
Related Products
Need Medicines Quick?
Share location to check quick delivery serviceability.
Change Location
Location Access Needed
Your location appears to be blocked or disabled.
Please enable the location from your browser or
device settings.
₹ 0
0
Items added
Quick Links
Categories
Our Policies
2026 Copyright By © Zeelab Pharmacy Private Limited. All Rights Reserved
Our Payment Partners
Added!
|
|




